বিশ্বজুড়ে

তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত

আফ্রিকা মহাদেশের দেশ তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশটির পার্লামেন্ট স্থগিত করেছেন ও প্রধানমন্ত্রী হিশাম মেচিচিকে বরখাস্ত করেছেন। তিউনিসিয়াজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর পরই দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট। সেইসাথে পার্লামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বিরোধীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তারা এটিকে ‘অভ্যুত্থান’ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। আবার অনেকে রাস্তায় নেমে এটিকে উল্লাসের মাধ্যমে উদযাপন করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা।

এর আগে দেশটিতে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার জেরে অসংখ্য মানুষ রবিবার (২৫ জুলাই) রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। রোববার (২৫ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতা হয়। তিউনিসিয়া সরকারের জন্য এই সংকট মোকাবেলা বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও ২০১৪ সালের সংবিধান দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানন্ত্রী ও সংসদের ক্ষমতাকে ভাগ করে দিয়েছে।

তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রপ্রতি কাইস সাঈদ রবিবার (২৫ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অনেক মানুষ ভণ্ডামির দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন। মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি যে, যদি কেউ একটি গুলি করে তাহলে সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা গুলি চালাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের শান্তি ফিরিয়ে আনতে ও দেশকে রক্ষা করতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত ঠিক আছে।’ রোববার (২৫ জুলাই) রাতে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার পর রাজধানী তিউনিসের রাস্তায় অনেক মানুষ উল্লাস করেন। প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ সেই উল্লাসে যোগ দেন।

দশ বছর আগের বিপ্লব তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিল। আর তিউনিসিয়ার বিপ্লব ছড়িয়ে পড়েছিল ওই অঞ্চলের আরো অনেক দেশে।

সূত্রে জানা যায়, তিউনিসিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ওই সময় গ্রেপ্তার হন অনেকে। ক্ষমতাসীন এন্নাহদা পার্টির কার্যালয়ও ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা।

এছাড়া পার্টি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায় এন্নাহদা। দেশে ‘অস্থিতিশীলতা ও ধ্বংস’ সাধনের চেষ্টারত ‘অপরাধী গোষ্ঠীকে’দায়ী করে তিউনিসিয়ার ক্ষমতাসীন দলটি।

এদিকে বিক্ষোভকারীরা আরও সহিংস আচরণ করলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট সাইদ। জনগণকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কেউ গুলি ছুড়লে সশস্ত্র বাহিনীও গুলি ছুড়বে।’ সাইদ জানান, দেশের সংবিধান তাকে পার্লামেন্ট স্থগিতের অনুমতি দিয়েছে।

সাইদ ও পার্লামেন্ট উভয়ে ২০১৯ সালে আলাদা আলাদা নির্বাচনে নির্বাচিত হয়। আর গত বছর মেচিচি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগের প্রধানমন্ত্রীও বেশি দিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তিউনিসভিত্তিক সাংবাদিক রাবেব আলো আল জাজিরাকে বলেন, সাইদের এই পদক্ষেপে বিস্ময়ের কিছু ছিল না। তিনি ইতোমধ্যেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া ও প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বর থেকে আমরা রাজনৈতিক সঙ্কটে রয়েছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker