শিল্প ও সাহিত্য

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন আজ (শুক্রবার)। ১৯৪৮ সালে হুমায়ূন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক তিনি। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়।

এবার চলমান কোভিড-১৯ মহামারির কারণে হুমায়ূনের এবারের জন্মবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান সীমিত করার পাশাপাশি এগুলোর বেশিরভাগই আয়োজন করা হয়েছে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে। এছাড়া বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে তার পরিবারের সদস্যরা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও টিভি চ্যানেলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচীনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। পাশপাশি তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবন মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও নয় নম্বর বিপদ সংকেত। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ও জয় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের মন।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’ লাভ করেন হুমায়ন আহমেদ। এ ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে ১৫ মিনিটের তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে ‘হু ইজ হু ইন এশিয়া’।

ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker